বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫-২৬ আসরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সপ্তম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যোগ দেওয়া এই দলটি বাজেটে সীমিত থাকলেও ড্রাফট আর ডিরেক্ট সাইনিংয়ে বেশ চতুরতার পরিচয় দিয়েছে। স্থানীয় প্রতিভাকে প্রাধান্য দিয়ে, কিছু স্মার্ট বিদেশি সংযোজন করে তারা এমন একটা স্কোয়াড গড়েছে যা কাগজে-কলমে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং চমক দেখানোর সম্ভাবনা রাখে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস স্কোয়াড বিপিএল ২০২৬
ডিরেক্ট সাইনিং (৪ জন)
- সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ) – ওপেনিং ব্যাটার + মিডিয়াম পেস
- হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ) – পেসার (ডেথ স্পেশালিস্ট)
- জনসন চার্লস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) – ওপেনিং ব্যাটার + উইকেটকিপার
- কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা) – টপ-অর্ডার ব্যাটার + উইকেটকিপার
ড্রাফট থেকে কেনা দেশি খেলোয়াড় (১২ জন)
- হাবিবুর রহমান সোহান – ৫০ লাখ (A+ ক্যাটাগরি)
- মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন – ৩৫ লাখ
- জাকের আলী অনিক – ৩৫ লাখ
- শাহাদাত হোসেন দিপু – ১৮ লাখ
- নাজমুল ইসলাম অপু – ১৮ লাখ
- মোহাম্মদ আবু হাসিম – ১৮ লাখ
- মুশফিক হাসান – ১৮ লাখ
- রেজাউর রহমান রাজা – ১৮ লাখ
- মেহেদী হাসান রানা – ১৪ লাখ
- সৈকত আলী – ১৪ লাখ
- সাব্বির হোসেন – ১৪ লাখ
- রহমতুল্লাহ আলী – ১১ লাখ
বিদেশি খেলোয়াড় (ড্রাফট)
- ইহসানুল্লাহ খান (আফগানিস্তান) – ২৬,০০০ USD (১৫০+ কিমি পেসার)
- হায়দার আলী (পাকিস্তান) – ২০,০০০ USD (আগ্রাসী টপ-অর্ডার ব্যাটার)
দলের শক্তি
১. বিধ্বংসী টপ-অর্ডার
সৌম্য সরকার + জনসন চার্লস দিয়ে ওপেনিং, তারপর কুশল মেন্ডিস ও হায়দার আলী – এই চারজনের যে কেউ একা ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারেন। পাওয়ারপ্লে-তে রানের বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২. দেশি পেস বোলিং ইউনিট অত্যন্ত শক্তিশালী
হাসান মাহমুদ (ডেথ), ইহসানুল্লাহ (রা পেস), মুশফিক হাসান, রেজাউর রহমান রাজা, আবু হাসিম, মেহেদী রানা – এতগুলো কোয়ালিটি পেসার একসঙ্গে খুব কম দলেরই থাকে বিপিএলে। মিরপুর-চট্টগ্রামের উইকেটে এরা বড় প্রভাব ফেলতে পারবে।
৩. মিডল অর্ডারে গভীরতা ও ফিনিশিং অপশন
অঙ্কন, জাকের, সোহান – তিনজনই উইকেটকিপার-ব্যাটার এবং ভালো ফিনিশার। ৬-৭ নম্বরেও রান আসার নিশ্চয়তা আছে।
দলের দুর্বলতা
- অভিজ্ঞ ও রহস্যময় স্পিনারের অভাব। নাজমুল ইসলাম অপু ও সৈকত আলী আছেন বটে, কিন্তু সিলেটের মতো স্পিন সহায়ক উইকেটে সমস্যা হতে পারে।
- বিদেশি কোটায় মাত্র ৪ জন, ইনজুরি হলে ব্যাকআপ খুবই কম।
- ব্যাটিংটা টপ-হেভি; ৫-৬-৭ এর পর আর ভরসার মতো কেউ নেই।
সম্ভাব্য সেরা একাদশ (সবাই ফিট থাকলে)
১. সৌম্য সরকার ২. জনসন চার্লস (wk) ৩. কুশল মেন্ডিস ৪. হায়দার আলী ৫. মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৬. জাকের আলী অনিক ৭. হাবিবুর রহমান সোহান ৮. হাসান মাহমুদ ৯. ইহসানুল্লাহ ১০. মুশফিক হাসান ১১. রেজাউর রহমান রাজা
ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার অপশন: শাহাদাত দিপু / মেহেদী হাসান রানা
শেষ কথা
নোয়াখালী এক্সপ্রেস বাজেট ফ্র্যাঞ্চাইজি হলেও যেভাবে স্কোয়াড সাজিয়েছে, তাতে তারা কোনোমতেই আনডারডগ থাকবে না। পেস বোলিং গভীরতা এবং টপ অর্ডারের ফায়ারপাওয়ার দিয়ে তারা সহজেই প্লে-অফের দৌড়ে থাকতে পারবে। যদি ইহসানুল্লাহ পুরো ফিট থাকেন এবং সৌম্য-চার্লস জুটি উড়ন্ত সূচনা দেয়, তাহলে বিপিএল ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভাব হতে পারে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের।
